সূরা ইখলাস: এক ঝলক

 


সূরা ইখলাস, যা সূরা আল-ইখলাস নামেও পরিচিত, হলো কুরআনের ১১২তম সূরা। মাত্র চারটি আয়াত নিয়ে গঠিত এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে মনে করা হয় এবং মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সূরাটির নামকরণের কারণ:

  • ইখলাস শব্দের অর্থ একনিষ্ঠতা। এই সূরায় আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর গুণাবলীর বর্ণনা থাকায় এটির নামকরণ করা হয়েছে "ইখলাস"।

সূরাটির বিষয়বস্তু:

  • আল্লাহর একত্ববাদ: সূরাটির প্রথম আয়াতেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়।
  • আল্লাহর গুণাবলী: সূরার দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতে আল্লাহর কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
  • আল্লাহ আস-সামাদ: অর্থাৎ, তিনি সকলের উপর নির্ভরশীল, কারো উপর নির্ভরশীল নন।
  • আল্লাহ জন্ম দেননি এবং তাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি: এর অর্থ হলো, আল্লাহ চিরন্তন এবং অবিনাশী।
  • আল্লাহর সমকক্ষ কেউ নেই: এর অর্থ হলো, আল্লাহর মতো কেউ শক্তিশালী, জ্ঞানী এবং সর্বগুণসম্পন্ন নয়।
  • শিরকের অস্বীকার: সূরার চতুর্থ আয়াতে যেকোনো প্রকার শিরকের অস্বীকার করা হয়েছে। শিরক বলতে বোঝায়, আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তাকে শরিক করা।

সূরা ইখলাসের ফজিলত:

  • হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "সূরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।" ([বুখারী ও মুসলিম])
  • আরও বর্ণিত আছে যে: "যে ব্যক্তি প্রতিদিন সূরা ইখলাস এক হাজার বার পড়বে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।" ([তিরমিযী])

  • অন্যান্য অনেক ফজিলতের মধ্যে রয়েছে:

    • পাপ ও অপরাধ থেকে মুক্তি।
    • দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি।
    • ঋণ পরিশোধে সহায়তা।
    • মৃত্যুর সময় সহজতা।

সূরা ইখলাস তেলাওয়াতের নিয়ম:

  • সূরা ইখলাস নিয়মিত তেলাওয়াত করা উচিত, বিশেষ করে নামাজের পর।
  • সূরাটি তাড়াহুড়ো ছাড়া, স্পষ্ট উচ্চারণে এবং ভাবার্থ উপলব্ধি করে তেলাওয়াত করা উচিত।
  • তেলাওয়াতের সময় আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও একাগ্র থাকা উচিত।

উপসংহার:

সূরা ইখলাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরা যা আমাদের আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।


Follow on Our Page


Comments